উদারতা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সংগঠনটি মনে করে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই সমাজ গড়ে তুলতে হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে সমাজের কোনো অংশকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। বিশেষ করে উপকূলীয় সাতক্ষীরা অঞ্চলে দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ
নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা ও নেতৃত্ব বিকাশে বিভিন্ন সচেতনতামূলক, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক নেতৃত্বে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা হয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের বোঝা নয়, বরং সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে তাদের উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্য দূর করতেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী
দরিদ্র পরিবার, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জনগোষ্ঠী, প্রত্যন্ত এলাকার যুবসমাজ এবং অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়ন কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবিকা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়।
যুব নেতৃত্বের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ
উদারতা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, যুবসমাজই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শক্তি। তাই তরুণদের স্বেচ্ছাসেবক ও নেতৃত্বের ভূমিকায় যুক্ত করে নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা ও সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হয়। এর মাধ্যমে শুধু সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা নয়, বরং তাদের নিজেদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
মূল লক্ষ্য: “কেউ পিছিয়ে থাকবে না”—এই নীতিকে সামনে রেখে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমঅধিকার, মর্যাদা, অংশগ্রহণ এবং সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা।
